একজন সফল রক্তসৈনিকের গল্প

আশিকুর রহমান লাভলুঃ

বাবার কাজ থেকে ভাল কাজের প্রেরণা নিয়ে বেড়ে উঠা ছোট সেই ইমন চৌধুরী আজ দেশের একজন অন্যতম রক্তযোদ্ধা। দেশের অসংখ্য মানুষের জন্য রক্তদাতা খুজে দিচ্ছেন তিনি। চার ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই মানুষটি জন্মগ্রহ করেন ১৯৯৫ সালে নোয়াখালী জেলায়। স্কুল জীবনের শুরু থেকে ভাল করার চেষ্টা করে আসেছেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থাকে মাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলোজি। বহু গুণান্বিত এই মানুষটি পেশায় শুধু একজন ফিজিওথেরাপিস্ট নন সেই সাথে একজন সাংবাদিকও। স্বাস্থ্যসেবা ভিত্তিক medinewsbd24.com এর সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন চাকরীর পাশাপাশি ।

চাকরির পাশাপাশি কিভাবে মানুষের জন্য রক্ত দাতা খুজে দেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। সময় বের করা কঠিন হলেও কেন জানি আমার ভাগ্যের সাথে মিলে যায়। আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি। অনেক সময় কাকতালীয় ভাবে সব হয়ে যায়”। কাজের পাশাপাশি ছুটির দিন ও অবসর সময় কাটে কিভাবে।তিনি জানান মানুষের উপকারে ব্যয় করি এই ছুটি গুলো। ইমন চৌধুরী সাধারণ মানুষের কাছে মহান মানুষ বলে খ্যাত তো এই খ্যাতির মূল কারন কি শুধু এই স্বেচ্ছাসেবী কাজ।উত্তরে হাসতে হাসতে বলেন হয়তোবা, তবে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নিজের কাছে অনেক ভাল লাগে যখন কোনখানে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না। আমি পরিচয় দেয়ার আগেই অন্যরা আমার পরিচয় বলে। ব্যাপারটা অন্য রকম আনন্দের।

শুধু ইমন চৌধুরী একা নয় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট করে তার এই মহৎ কাজকে।আর পরিবারের বাবা ও মা উভয়ই রক্তদান করেছেন একাধিক বার। ইমন চৌধুরী জানান রক্তদানে আগে কাছের মানুষকে সচেতন করতে হবে।তবেই অন্যরা সচেতন হবে।

 

সারাদিন অফিসের পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রক্তদাতা খুজে বেড়ান তিনি। রক্তদান সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রুপে প্রতিনিয়ত পোস্ট করে চলছেন এই গুনি মানুষটি।মোবাইল ফোনে পরিচিত রক্তদাতাদের খুজেন তিনি।আর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নানা ধরনের পুরষ্কার অর্জন করেছেন তিনি।মাঝে মাঝেই বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার ক্যাম্পেইন করেন।

অন্যদিকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘অপর্ণ ব্লাড ফাউন্ডেশন।কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হল এই স্বেচ্ছাসেবী রক্ত দানের ফাউন্ডেশন।তিনি জানান, “অর্পণ ফাউন্ডেশন গত ৮ই নভেম্বর ২০১৫ তে আমরা প্রতিষ্ঠা করি। এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার অন্যতম অবদান সাধারণ সম্পাদক “মাহমুদ নোমান” ও সহ-সভাপতি “মুজাহিদ রায়হান” এর। এছাড়াও আমরা তিন জন মিলে বহু রাত পরিশ্রম করেছি এ সংগঠনের জন্য। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিঠু দেবনাথ, প্রদীপ চন্দ্র দাস, মোস্তাফিজ, মোস্তাকিম সায়মন, রাসেল, নাজিম, মেঘলা, তাহমিনা, হাফসা, ওমর ফেরদৌস, রবিন, তরিকুল সহ আরো অনেকের প্রতি যারা শ্রম দিচ্ছে এ সংগঠনের জন্য। তবে এত শ্রম স্বার্থক হয়েছে বলে জানান তিনি। আর সম্পূর্ণ নিজেদের টাকায় চলে তাদের এই ব্লাড ফাউন্ডেশন। বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষ্যে সবাইকে একটা কথাই বলতে চান রক্তযোদ্ধা ইমন, “রক্ত দিন, জীবন বাঁচান। নিজে রক্ত দিন, অন্যকে রক্তদানে উৎসাহিত করুন”।
শতকষ্টের মাঝে হলেও অসুস্থ কিংবা মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্ত দাতা সংগ্রহ দিতে পারলে তার আনন্দের সীমা থাকে না।
তিনি মনে করেন আজ আমরা এগিয়ে আসলে, একদিন পুরো সমাজ এগিয়ে আসবে।ভবিষ্যতে এই ধারাবাহিতা বজায় রেখে আরো স্বেচ্ছাসেবী কাজ করতে চান তিনি।সেই সাথে মানবতার জয় হোক, মানুষের জয় হোক।এমন আশা সকলের প্রিয় এই ইমন চৌধুরীর।

একজন সফল রক্তসৈনিকের গল্প

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *